কীভাবে শান্তিনিকেতন ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট 2023 এর তালিকায়?

UNESCO World Heritage Site India


ইউনেস্কোর (UNESCO) তালিকাভুক্ত ভারতের World Heritage Site ছিল ৪০ টি। এখন সেই তালিকায় ৪১ তম স্থান করে নিয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "শান্তিনিকেতন"। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছিলেন এই শান্তিনিকেতনের বাড়িতেই। বর্তমানে সেই শান্তিনিকেতনকেই ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের মর্যাদা প্রদান করল।

ইউনেস্কো কোন দেশের কোন জায়গার বিশেষ সামাজিক অথবা স্থাপত্যের গুরুত্বের উপর নির্ভর করে World Heritage এর তালিকা প্রস্তুত করে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল বিশ্বের এই সকল স্থান গুলিকে চিহ্নিত করে তাদের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করা। যা মানবতাকে তুলে ধরতে সক্ষম হবে।

১০ থেকে ২৫ শে সেপ্টেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত চলা সৌদি আরবের রিয়াধে অনুষ্ঠিত UNESCO এর ৪৫ তম সম্মেলনে ভারতের শান্তিনিকেতনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ১৬ ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ UNESCO World Heritage Site এর যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তাতে ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতন (Shantiniketan) এর নাম জ্বল জ্বল করছে।


শান্তিনিকেতনের নামকরণ ও ইতিহাস


বাংলার ইতিহাসে শান্তিনিকেতন একটি উজ্জ্বল নাম। শান্তিনিকেতনের পূর্বে নাম ছিল ভূগোডাঙ্গা যা ক্রয় করেছিলেন ঠাকুর পরিবার। ১৮৬২ সালে নৌকো যাত্রা করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর রায়পুর যাচ্ছিলেন। এই পথেই তিনি একটি জায়গায় দেখেন সেখানে লাল মাটি এবং ধানের ক্ষেত ভরা। এর পরেই তিনি ঠিক করেন এইখানে একটি "আশ্রম" (Heritage) নির্মাণ করবেন। তিনি তৈরি করেছিলেন শান্তিনিকেতন নামের বাড়ি; যার ইংরেজি অর্থ "abode of peace". পরবর্তীকালে ওই জায়গার নাম রাখা হয় শান্তিনিকেতন।


রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর শান্তিনিকেতন


রবীন্দ্রনাথের বাড়ি (Heritage)


বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় শান্তিনিকেতন এই কাটিয়েছিলেন। তিনি ১৯০১ সালে 48 বছর বয়সে শান্তিনিকেতনে একটি "ব্রহ্মচারী আশ্রম" বিদ্যালয় স্থাপন করেন। যা ছিল প্রাচীনকালের গুরুকুলের ন্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি থাকার ব্যবস্থা বা আবাসিক (Hostel) ছিল। যেখানে খোলা আকাশের নীচে মুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়


বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়


রবীন্দ্রনাথের তৈরি এই ব্রহ্মচারী আশ্রম পরবর্তীকালে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এ পরিণত হয়েছিল। তৎকালীন ২০ শতকের ইউরোপীয় আধুনিকতা থেকে বেরিয়ে এসে এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছিল। প্রাচ্যের স্থাপত্য শৈলীর অনুকরণে যেমন ভারত, চীন, শ্রীলংকা প্রভৃতি দেশের ঐতিহ্য এর মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। তাই একে বলা হতে থাকে বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় বা World University.

পশ্চিমবঙ্গে যে দুটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় আছে, তাদের মধ্যে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় একটি অন্যতম। এই বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য Chancellor হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং Vice Chancellor হলেন ______।


প্রথমে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০১০ সালে রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকায় আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও তা সফল হয়নি। এরপর সরকার ২০২১ সালে পুনরায় নতুন তথ্য তুলে ধরে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিয়ে ইউনেস্কোতে জমা করে। এছাড়াও ফ্রান্সের আই সি ও এম ও এস শান্তিনিকেতনকে World Heritage করার জন্য সুপারিশ করেছিল।

Next Post Previous Post