রোমের সাত রাজা - ঐতিহাসিক গল্প

 রোমের সাত রাজা

ঐতিহাসিক গল্প রোমের সাত রাজা
ঐতিহাসিক গল্প রোমের সাত রাজা

বিশ্ব ইতিহাসের সকল সভ্যতার মধ্যে রোমানদের ইতিহাস সবচেয়ে বিখ্যাত। ইতিহাসে এর প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি, তারপরেও এর খুব ক্ষুদ্র অংশই ছিল মৌলিক। রোমানরা খুব অল্প কিছু শিল্পী কিংবা চিন্তাবিদ উপহার দিতে পেরেছে। বেশির ভাগ এসেছিল গ্রীস বা এশিয়া মাইনর, মিশর সহ অন্যান্য উপনিবেশ থেকে। বর্ণমালা, ভাষা এবং ব্যাকরণ গ্রীক থেকে গ্রহণ করা হয়, স্থাপত্য বিদ্যাও তেমনি। এমনকি আইনী ব্যবস্থা, যা ছিল ওই সময়ে অন্য যে কোন সভ্যতার চেয়ে সমৃদ্ধ, তাও বেবিলন, পার্সিয়া এবং গ্রীসের অবদান।

তাহলে রোমের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা কোথায়? প্রাথমিকভাবে বলা যায় রোমানরা ছিল অত্যন্ত বাস্তববাদী মানুষ। তারা অদ্ভুত দক্ষতার সাথে নিজেদের উন্নয়ন সাধন করেছিল। তাদের প্ল্যান প্রোগ্রামের অভাব ছিল না। তারা ছিল দুঃসাহসী যদিও প্রথম দিকে একের পর এক যুদ্ধে হেরেছে। তবে শেষের দিকে জয়লাভ করেছে। তাদেরকে লড়াই করতে হয়েছে কার্থাজিনিয়ান, হ্যানিবালের মত দুর্ধর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। যুদ্ধে রোমানদের যে রকম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আর কোন সভ্যতাকে এতটা ক্ষতির স্বীকার হতে হয়েছিল কিনা সন্দেহ। বেশ কয়েকবারই রোমান সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, তারপরও টিকে থেকেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী।

রোমানরা কিভাবে বিশ্বের বৃহত্তম সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল? অথচ তাদের শুরুটা ইতালির টিবের নদীর একটি ছোট শহর থেকে।

রোমানরা বিশ্বাস করত তারা সেই দলভুক্তদের বংশধর যারা ট্রয়ের রাজা প্রিয়ামের ছেলে ইনিয়াসকে যুদ্ধে সহায়তা করেছিল, একিয়ানরা ট্রয় নগরী জ্বালিয়ে দিলে তারা রাজা প্রিয়ামকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। ইনিয়াস জাহাজ নিয়ে ভূমধ্যসাগরে ভেসে পড়েন এবং ঝড়ের কবলে পড়ে দিকভ্রান্ত হয়ে চলে আসেন টিবের নদীর মোহনায়। এখানে তিনি লাভিনিয়াম নামে একটি শহর পত্তন করেন। খ্রী. পূ. ১২০০ শতকে ইন্দো-ইউরোপীয়ানরা এশিয়ায় বেশীর ভাগ অঞ্চল দখল করে অনেক সভ্যতা এবং সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দেয়। কিছু ইন্দো- ইউরোপীয়ান পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে আস্তানা গাড়ে ইতালীতে। ট্রোজানরাও ইন্দো- ইউরোপীয়ান সময়ের।

ইন্দো-ইউরোপীয়ানদের যারা ইতালীতে বসতি গেড়ে বসেছিল তারা লোহার ব্যবহার জানত এবং এরা বিভিন্ন উপজাতিতে ভাগ হয়ে যায়। এদের মধ্যে ছিল আমব্রিয়ান, ল্যাটিন, স্যামনাইট ও এট্রসকান। প্রত্যেকেই ছিল যোদ্ধার জাত এবং তাদের বেশিরভাগ সময় কেটে যেত মারামারিতে। এসকান ও ল্যাটিনরা টিবের নদী ও ইতালীর পশ্চিমে উপকূলের মাঝখানের অঞ্চল দখল করে নেয়। এ অঞ্চল ছিল অত্যন্ত উর্বর, বিশেষ করে সব্জি, আঙ্গুর ও জলপাই খুব ভাল জন্মাত। গরু- মোষ চড়ানোর জন্যেও ছিল চমৎকার তৃণভূমি। আরো দক্ষিণে, সামনাইট অঞ্চলও কম উর্বর ছিল না।

সিসিলি ও ইটালিয়ান উপদ্বীপের নিম্নাঞ্চলে গ্রীক ও ফিনিশীয়রা উপনিবেশ স্থাপন করে। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করত। কারণ তাদের ভূমি ছিল শুষ্ক ও ধুলোময়। ওখানে কাজ করা ছিল কঠিন।

খ্রী. পূ. ৭৫৩ অব্দে রোমের পত্তন হয়। টিবের নদী থেকে মাইল কুড়ি দূরে, একটি পাহাড়ি এলাকায় গড়ে তোলা হয় নগরীটি। রোমের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন একজন ল্যাটিন সর্দার, রোমুলাস, লাভিনিয়ামের চেয়ে রোমকে তার অধিক নিরাপদ মনে রোমানরা বিশ্বাস করত রোমের প্রতিষ্ঠাতা রোমুলাস ও তার যমজ ভাই রেমাস নেকড়ে মা'র দুধ খেয়ে বড় হয়েছেন । হতো কারণ এ শহরের অবস্থান ছিল সাগর থেকে দূরে এবং গ্রীক ও ফিনিশীয় লুটেরাদের নাগালের বাইরে। এ শহরের পার্বত্য এলাকায় প্রথম যে ইমারত তৈরি করা হয়, পরে এর নামকরণ করা হয়েছিল প্যালাটাইন হিল। সম্রাটরা এখানে অপূর্ব সুন্দর সব প্রাসাদ নির্মাণ করেন।

রোমের সাত রাজা

নং রাজা
রোমুলাস
নুমা
প্রথম সম্রাট অগাষ্টাস
তুল্লাস হেস্টিলিয়াস
আনকাস মার্সিয়াস
টারকুইন
সার্ভিয়াস

রোমুলাস রাজা হয়ে ৭১৬ খ্রী. পূ. পর্যন্ত রাজত্ব করেছেন। এ সময়ে প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সাথে প্রায়ই তাকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে হয়েছে।

রোমুলাসের পরে সিংহাসনে আরোহণ করেন তারই এক বন্ধু, নুমা পম্পিলিয়াস। ইনি ভিন্ন জাতি স্যাবিন থেকে এসেছিলেন। ধারণা করা হয় রোমে তিনিই প্রথম গ্রীক ধর্মের অনুসরণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সূচনা করেন। রোমানদেরও একই দেবতা ছিল গ্রীসদের মত, তবে ভিন্ন নামে। যেমন জিউস রোমানদের কাছে ছিলেন জুপিটার। হেরা জুনো, হারমিস মার্কারী ও এখেনি মিনার্ভা। রোমানদের সাগর দেবতা ছিলেন নেপচুন এবং পাতাল দেবতা প্লুটো।

নুমা (খ্রী. পূ. ৭১৬-৬৭৩) একজন জ্ঞানী ও বিবেচক শাসক ছিলেন, তার অধিনায়কত্বে নতুন শহরটি দ্রুত সমৃদ্ধি লাভ করতে থাকে। নুমা শহরের চারদিকে কিছু খামার গড়ে তোলেন যাতে নগরবাসীর খাদ্যের অভাব না হয়। তিনি দেবতাদের মন্দির নির্মাণ করেছেন। একটি মন্দির ছিল দুই মাথা অলা দেবতা জানুসের। ইনি দুই দিকেই দেখতে পেতেন। তার একটি মাথা ছিল শান্তির, অপরটি যুদ্ধের। মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকত। শুধু যুদ্ধের সময় খোলা রাখা হতো । নুমার পরে অবশ্য মন্দিরের দরজা প্রায়ই বন্ধ থাকত। এ দরজা খোলা হয় প্রথম সম্রাট অগাষ্টাসের আমলে (খ্রী. পূ. ২৭-১৪ খ্রীষ্টাব্দ)

তুল্লাস হেস্টিলিয়াস (৬৭৩-৬৪১ খ্রী. পূ.) ছিলেন পরবর্তী রাজা। তিনিও জ্ঞানী শাসক ছিলেন। তবে যুদ্ধের নেশাও ছিল রক্তে। প্রতিবেশী রাজ্য আলবা লোঙ্গা দখল করে তিনি সেখানকার গ্রামগুলো ধ্বংস করে লোকজন ধরে নিয়ে আসেন রোমে। নগরীর ইমারত নির্মাণও তিনি চালিয়ে গেছেন।

তুল্লাসের পরে ক্ষমতায় আসেন আনকাস মার্সিয়াস (৬৪১-৬১৬ খ্রী. পূ.), বেশিরভাগ সময় তার কেটেছে শহরের পরিধি বিস্তৃতিতে। তিনিই প্রথম টিবের নদীর ওপরে সেতু নির্মাণ করেন এবং দক্ষিণ তীরে দালান কোঠা বানান ল্যাটিন লোকদের বসবাসের জন্যে। এদেরকে তিনি নানা যুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন। ফলে শহর নদীর দুই তীরেই আয়তনে বাড়তে থাকে। আনকাস টিবের নদীর মোহনায়, ওষ্টিয়ায় একটি বন্দর এবং জেটিও নির্মাণ করেছিলেন। ফলে রোমে নানা জিনিস সহজে আমদানী করা যেত। এক পর্যায়ে শহরের নিজস্ব মিলনস্থলে, গণ স্নানাগার ও গড়ে ওঠে ক্ষুদ্র আকারে। আনকাসের মৃত্যুর সময়ে রোম বিশাল এক নগরীতে পরিণত হয়েছিল। উত্তর অঞ্চলে সাতটি পাহাড় জুড়ে ছিল এর বিস্তৃতি। এ পাহাড়গুলো ছিল খুবই বিখ্যাত। নাম প্যালাটাইন, ক্যাপিটোলাইন, এসকুইলাইন, অ্যাভেনটাইন, সেলিয়ান, কুইরিনাল ও ভিমিনাল। এ জন্যেই রোমকে বলা হয় 'সাত পাহাড়ের দেশ'।

স্পার্টানদের মত আদি সময়ের রোমানরাও ছিল জেদী, একগুঁয়ে, বেপরোয়া, সুশৃঙ্খল এবং যুদ্ধপ্রিয়। একজন মানুষের সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষা ছিল যুদ্ধে সেনাপতিত্ব করা। রোমানদের শক্তিশালী ও যুদ্ধবাজ হওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। কারণ তাদের ক্রম বিস্তৃতি ঈর্ষা জাগিয়ে তুলেছিল প্রতিবেশীদের মনে। তারা রোমানদেরকে নানাভাবে হেনস্তা করছিল। রোমের সবচেয়ে বড় শত্রু ছিল ইসকানরা। এরা ভয়ানক নিষ্ঠুর ও নির্দয় স্বভাবের মানুষ। এরাও লোহার খুব ভাল ব্যবহার জানত । আনকাসের মৃত্যুর পরে তাকে অনুসরণ করার মত যোগ্য নেতৃত্বের অভাব দেখা দেয় রোমে। তখন একদল এটুসকান রোম অবরোধ করে ফেলে। শহর থেকে পাঠানো একদল রোমান সৈন্যকে তারা পরাজিত করে। তবে দু'দলে আলোচনাও চলছিল। এট্টুসকানদের নেতা টারকুইন বলেন তিনি নিজের কিছু লোক নিয়ে রোমে বাস করতে চান। রোমান কমিশনাররা এ প্রস্তাবে রাজি হন। একই সময়ে টারকুইনকে রাজা নির্বাচিত করা হয়। তিনি আটত্রিশ বছর রাজ্য শাসন করেছেন এবং ওই সময়ে রোম এবং নগরবাসীর কল্যাণে অনেক ভাল ভাল কাজ করে গেছেন।

টারকুইন রোমের প্রধান পয়োনালী ব্যবস্থা গঠন করেন, এর নাম ক্লোকা ম্যাক্সিমা। এর ফলে নগরবাসীর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। ক্রোকা ম্যাক্সিমার খানিক অংশ রোমে এখনও বিদ্যমান। টিবেরে বন্যা হবার সময় অতিরিক্ত পানি উপত্যকায় নিয়ে যাবার বন্দোবস্তও তিনি করেছিলেন। এর ফলে মাঠগুলো উর্বর হয়ে ওঠে, এলাকাতেও ফসল ফলানো সম্ভব হয়।

ক্যাপিটোলাইন পাহাড়ে টারকুইন দেবতাদের রাজা জুপিটারের একটি মন্দির স্থাপন করেছিলেন যা তীর্থ স্থানে পরিণত হয়। প্যালাটাইন পাহাড়ের নিচে তিনি বিন্যস্ত করেন সার্কাস ম্যাক্সিমাস। এটি ছিল গোলাকার, প্রকাণ্ড ঘোড়দৌড়ের মাঠ। ওখানে রথ চালাবার প্রতিযোগিতা হতো। সার্কাসে প্রতিবছর উৎসবও হতো, খেলা হতো। স্পার্টান ও রোমান উভয়েই বিশ্বাস করত শরীর ঠিক রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

খ্রী. পূ. ৫৭৮-এ টারকুইন মারা গেলে তার স্থলাভিষিক্ত হন তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টা, সার্ভিয়াস তুল্লিয়াস। তিনি ছিলেন শান্তিকামী মানুষ। সার্ডিয়াসের সময়ে রোম সুপরিচিত হয়ে ওঠে ল্যাটিন ভাষার প্রধান নগরী হিসেবে। সার্ভিয়াসের বেশিরভাগ অবদান ছিল শহর কেন্দ্রিক। তিনি গোটা নগরীর চারদিকে মজবুত দেয়াল গঠন করেন। সাত পাহাড়কে ঘিরে রাখা সেই দেয়ালের কিছু অংশ কালের সাক্ষী হয়ে আছে এখনও।

সার্ডিয়াস রোমানদের শ্রেণী পদ্ধতিকে নিয়মিত করেন। রোমানদের মধ্যে যারা অভিজাত শ্রেণীর ছিলেন তারা অ্যাসেম্বলিতে যোগ দেয়ার সুযোগ পেতেন। এই অ্যাসেম্বলি গঠিত হতো উঁচু বংশে জন্ম নেয়া লোকজন দ্বারা। এরা ছিলেন রাজার উপদেষ্টা। এরা এক পর্যায়ে অভিজাতদের মতই ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। এদের কারণে রোমে অন্যায়-অত্যাচার বেড়ে চলছিল। এরা সরকারের সবগুলো পদ দখল করে রাখতেন দীর্ঘসময় ধরে এবং রোমান জনগণের স্বার্থের প্রতি তাদের কোন খেয়াল থাকত না।

প্লিবিয়ান শ্রেণী ছিল মুক্ত ক্রীতদাস কিংবা আগন্তুক যারা শহরে বাস করতে আসত কিংবা অভিবাসী অথবা তাদের পূর্ব পুরুষদের বংশধর। তৃতীয় শ্রেণীর লোকেরাও ক্রীতদাস ছিল। তবে রোমান আইনে তারা কিছু অধিকারও ভোগ করত।

সার্ভিয়াস সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন। প্যাট্রিসিয়ান বা অভিজাত এবং প্লেবিয়ান বা নিকৃষ্ট শ্রেণীর জন সাধারণের নিজেদের সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার ছিল। তাদেরকে ইউনিফর্ম সরবরাহ করা হতো, দেয়া হতো অস্ত্র এবং দেশ দখল করতে পারলে লুণ্ঠনেও অংশ নেয়ার অধিকার তাদের ছিল। ফলে অনেক সৈনিকই লুটের টাকায় বিলাসবহুল জীবন যাপন করত।

টারকুইন মৃত্যুর সময় কমবয়েসী একটি ছেলে রেখে যান। তবে অত্যন্ত অল্প বয়স বলে সার্ভিয়াসকেই রাজা বানানো হয়। কিন্তু যৌবনে পা দেয়ার পরে, এই ছেলেটি, এর নামও ছিল টারকুইন, সে নিজে রাজা নয় বলে অসস্তোষ প্রকাশ করতে থাকে। নিষ্ঠুর ও বেপরোয়া স্বভাবের ছেলেটি সার্ভিয়াসের কোমল আচার আচরণ ও ভাল কাজগুলো ঘৃণার চোখে দেখত। সার্ভিয়াসের মেয়েকে বিয়ে করা সত্ত্বেও শ্বশুরের প্রতি তার প্রতিহিংসামূলক প্রবৃত্তি হ্রাস পায়নি। সে সার্ভিয়া দখল করে এবং খ্রী. পূ. ৫৩৪-এ হত্যা করে সার্ভিয়াসকে।

এ নৃশংস ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যায় রোমের মানুষ। তবে টারকুইন প্রাসাদ রক্ষীদেরকে ঘুষ দিয়ে আগেই বশ করে ফেলায় কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস পায়নি। টারকুইনকে রোমানরা নাম দিয়েছিল সুপারবাস। এর অর্থ একগুঁয়ে, অহংকারী এবং যে খুব খারাপভাবে রাজ্য শাসন করে। সে শহরকে নানা যুদ্ধ বিগ্রহে জড়িয়ে ফেলে, অনেক মানুষকে বিনা বিচারে মেরে ফেলে এবং রোমে আতঙ্কের রাজ্য স্থাপন করে। তাকে সবসময় ঘিরে থাকত শক্তিশালী প্রহরীর দল। কারণ অত্যাচারী বলেই সে ছিল ভীরু আর এমনকি নিজের উপদেষ্টাদেরকেও বিশ্বাস করত না।

খ্রী. পূ. ৫১০-এ দু'জন অভিজাত রোমান নেতা, এল জুনিয়াস ব্রুটাস ও এল. কোলাটিনাস বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসেন রাজার বিরুদ্ধে। উচ্চ শ্রেণীর প্রায় সকলেই তাদেরকে সমর্থন যুগিয়েছিল-নিম্নশ্রেণী বা প্লেবিয়ানসহ। টারকুইন ও তার স্ত্রীকে নির্দেশ দেয়া হয় শহর ছেড়ে চলে যেতে এবং বলা হয় তারা যেন আর কোনদিন দেশে ফিরে না আসে।

টারকুইনের বিভীষিকা দূর করতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় রোমে আর কোন রাজা থাকবে না। পরিবর্তে রাজ্য শাসন করবেন দু'জন কর্মকর্তা। যাদেরকে বলা হবে কনসাল। অ্যাসেম্বলি অফিস এক বছরের ভিত্তিতে তাদেরকে প্রতি বছর নির্বাচিত করবে। কনসালের কাজ হবে সরকারকে সাহায্য করা, যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব প্রদান এবং আইনের অনুশাসন জারী করা।

এটুসকানদের প্রতি রোমানদের এতই ঘৃণা জন্মে গিয়েছিল অত্যাচারী টারকুইনের কারণে যে রোমান রাজ্যে এ রাজার নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করত না কেউ নতুন পদ্ধতির অধীনে প্রথম দু'জন কনসাল ছিলেন ব্রুটাস ও কোলাটিনাস । এদেরকে খ্রীষ্টপূর্ব ৫০৯ তে নির্বাচিত করা হয়। এদেরকে বলা যায় রোমান প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা।

Source: The History of the World

Next Post Previous Post